মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস নিয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা 

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস নিয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা 

সড়ক

আব্দুল্লাহ, কুবি প্রতিনিধি : দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গাড়িচালকদের অতৎপরতা, ট্রাফিক আইনের অপপ্রয়োগ আর যাত্রীদের অসাবধানতায় প্রতিনিয়তই সড়ক-মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি, তীব্র যানজটেও নাকাল হচ্ছে মানুষ। এ বছর সপ্তমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘আইন মেনে সড়কে চলি-স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি’। নিরাপদ সড়ক দিবসে দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে নিজেদের ভাবনা জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। পাঠকদের উদ্দেশে কথাগুলো তুলে ধরেছেন আব্দুল্লাহ।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম খান বলেন, “নিরাপদ সড়ক দিবসে প্রতিপাদ্য হোক,”নিয়ম মেনে রাস্তায় চলাচল করি”। এর জন্য সকল স্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সর্বাগ্রে চালকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও ফুটপাত মুক্ত করে রাখতে হবে, যেখানে শেখানে ময়লা আবর্জনা রাখা যাবে না। এছাড়া ট্রাফিক আইন সম্পর্কে চালকদের সচেতন করতে হবে। জনগণকেও ট্রাফিক আইন ও রাস্তায় নিরাপদে চলাচলের লক্ষে প্রণীত আইন-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। মাদক সেবন করে যাতে চালকরা গাড়ি চালাতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বিরতিতে তাদের ডোপ টেস্ট করতে হবে। গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের পাশাপাশি তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”
ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ছুমাইয়া জাহান ইকরা বলেন, “আজকাল সড়ক দূর্ঘটনা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দিন দিন ব্যাপক আকারে বেড়েই চলেছে। আর এই দূর্ঘটনার শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের খুব কাছের মানুষটিও। সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন নিরাপদ সড়ক। সতর্কতার সাথে গাড়ি চালানো, যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ- লাইসেন্সবিহীন গাড়ি বর্জন, চালকদের দক্ষতা যাছাই, নেশাগ্রস্থ ও ফোনে কথা বলা অবস্থায় গাড়ি না চালানো, যানবাহন চলাচলের সরু রাস্তা প্রশস্ত করা সর্বোপরি দূর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে আমরা কমাতে পারবো এই মৃত্যুর মিছিল। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সরকার, চালক, মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী একা তালুকদার বলেন, “বর্তমান সময়ে মোটা দাগে কনসার্নের একটা ব্যাপার হলো এই সড়ক দুর্ঘটনা। আমরা প্রতিদিন-ই ঘর থেকে বের হই এক অনিশ্চয়তা নিয়ে, সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরব কি না আমরা কেউ-ই জানি না। এই যে সড়ক দূর্ঘটনা একটা মহামারির মতো রুপ নিয়েছে। এর পিছনে কারণ হিসেবে অনেক কারণ থাকলেও আমি সাধরণ জনগণ হিসাবে দুইটা কারণকে দায়ী করতে পারি। প্রথমত, রাস্তা নির্মাণে সঠিক পরিকল্পনা না থাকা, দ্বিতীয়ত, চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে বের হওয়া। আজকের এই জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে কতৃপক্ষের কাছে চাওয়া,অন্তত এই ব্যাপারগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাকির হোসাইন, “বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় জন্য কারণ হিসেবে আমি কয়েকটি বিষয়কে দায়ী মনে করি।  প্রথমত, আমি বলবো যে আমাদের দেশের রাস্তাগুলো অনেক ছোট আর এই ছোট রাস্তা দিয়ে অনেক গাড়ি চলাচল করে এফলে নানা দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। দ্বিতীয়, চালকদের ওভারটেক করার প্রবণতা। তারা সবসময় এই কাজটা করে থাকে।  নিজের যানবাহনকে সবার আগে নিয়ে যেতে চাই। গাড়ি চলানো সময় নিজেকে অন্যের প্রতিযোগি মনে করে। তৃতীয়, আমি বলবো সঠিক পর্যবেক্ষণ বা দায়িত্বহীনতার কারণে এই দুর্ঘটনাগুলো হয়ে থাকে। সবশেষে, পথচারীদের অসর্তকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে নানা ধরনের দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। এসব সড়ক দুর্ঘটনা ফলে হাজার হাজার মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে।  হাজার হাজার পরিবারে নেমে আসে চরম দুঃখ। শেষ হয়ে যায় হাজারো স্বপ্ন। এই বিষয়গুলো সতর্ক থাকতে পারলেই আমরা নিরাপদ সড়ক পাবো।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |